নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রিন্ট
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ
![]()
জেলহত্যা দিবস-স্মরণ সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ফজলুর রহমান বক্তব্য দিচ্ছেন। ছবি-এনওয়াইভয়েস টুয়েন্টিফোর ডটকম।
ফ্লোরিডা প্রতিনিধি
যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ঐতিহাসিক ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ফ্লোরিডা স্টেট আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় লেক ওয়ার্থের Crazee Mario Restaurant-এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চার জাতীয় নেতা—বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ফ্লোরিডা স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নান্নু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুজিব উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ দক্ষিণ শাখার সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. ফজলুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফ্লোরিডা স্টেট আওয়ামীলীগের সহসভাপতি শেখ বাবুলের পরিচালনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৫ আগস্টে নিহত তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণ কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি সালমা রহমান মিনু , ইমতিয়াজ হাসান, নাফিজ আহমেদ জুয়েল, শেখ বাবুল এবং এম রহমান জহির, বঙ্গবন্ধুর পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইকরামু ইসলাম ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, কোষাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম বাবু, স্বাস্থ্য সম্পাদিকা ডা রুবি, মহিলা আওয়ামী লীগের লিনা হক , তাজরুল ইসলাম তাজ, সিরাজুল হক প্রমুখ ।
প্রধান বক্তা এম ফজলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে আপস না করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল থাকার কারণেই তাঁদের জীবন দিতে হয়।
তিনি বলেন, “চার জাতীয় নেতা যেমন অন্যায় ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কাছে মাথানত করেননি, তেমনি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাও কোনো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে আপস করবেন না। তাঁদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে।”
দলীয় নেতাকর্মীদের সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এম ফজলুর রহমান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধান বক্তা আরও বলেন, আসছে ডিসেম্বরে জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন বলে তাঁরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। তিনি নেত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় তাঁর সফরসঙ্গী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ফজলুর রহমান বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেন, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
Posted ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24